গল্প: “জামদানির ওজন” | জোর করে বিয়ে: মেয়েরা কি সুখী হয়

 গল্প: “জামদানির ওজন”

গল্প: “জামদানির ওজন”

পহেলা বৈশাখ। ঢাকায় এক জমকালো অনুষ্ঠানে, লাল-সাদা শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি—নাম তার সালমা। চোখে কাজল, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, কিন্তু মুখটা গম্ভীর। কারণ আজকের এই সাজ, এই পোশাক, এই হাসি—সবই বাহ্যিক। ভিতরে সে একেবারে ফাঁকা।

চার বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল এক সরকারি চাকুরে, বয়স পঁয়তাল্লিশ, দুই সন্তানের বাবা। সালমার বয়স তখন মাত্র উনিশ। তার তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাই হয়নি। স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হবে, শহরে একটা কোচিং খুলবে। কিন্তু তার মায়ের একটাই কথা—

“মেয়ে, ভালো পাত্র সবসময় আসে না। বিয়েটা হলে আমাদের সংসারও হালকা হবে।”

সালমা চুপ করে ছিল। প্রতিবাদ করতে পারেনি। কারণ তারা গরিব, বাবার অসুস্থ শরীর, ছোট দুই ভাই—সব মিলিয়ে সে নিজেকে বোঝা ভেবেছিল। তাই মাথা নিচু করে কবুল বলেছিল।

বিয়ের দিন তাকে জামদানি শাড়ি পরানো হয়েছিল, লাল রঙের। মা চোখের জল মুছতে মুছতে বলেছিলেন,

“দেখিস মা, তোকে দেখে সবাই বলবে—কী সুন্দর বউ!”

কিন্তু সে জামদানি শাড়ির ওজন ছিল তার শরীরের থেকেও ভারী। সেই শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল স্বপ্নের মৃত্যু, ইচ্ছের শ্বাসরোধ, ভালোবাসার গলা টিপে ধরা।

বিয়ের পর দিনগুলো কেটেছে শহরের এক ফ্ল্যাটে—যেখানে ভালোবাসা ছিল না, ছিল সময় মত খাবার, বিছানা আর “নিজের দায়িত্ব” পালন।

স্বামী তাকে ভালোবাসা বলেনি কখনো, শুধু বলত—

“তোমার যা প্রয়োজন, দিয়ে দিচ্ছি তো! এত অভিযোগ কেন?”

সালমা উত্তর দিত না। টাকা দিয়ে সম্পর্ক হয় না—এই কথাটা তার স্বামী জানত না।

বছরখানেক পর একদিন স্বামীর মেয়ে তাকে বলে—

“তুমি তো আমার মায়ের জায়গা নিতে পারবে না। চেষ্টা করো না।”

সেদিন রাতে আয়নায় মুখ দেখে সে নিজেকে জিজ্ঞেস করেছিল—

“আমি কি আসলেই শুধু একটা স্থান পূরণ করতে এসেছি? আমি কি নিজের জীবনের জন্য কিছুই চাইতে পারি না?”

ধীরে ধীরে সে নিজেকে গুছিয়ে নেয়। একটা অনলাইন কোর্স করে। নিজেই একটা ছোট অনলাইন বইয়ের পেজ চালু করে। মানুষ তাকে খুঁজে পায় তার লেখার ভেতর। একসময় সে লেখে—

“যার জীবনে নিজের ইচ্ছা নেই, তার জীবনে অন্য কারো ভালোবাসা থাকলেও তা মূল্যহীন।”

পহেলা বৈশাখে সেই পেজ থেকে একটি বই প্রকাশিত হয়—“জামদানির ওজন”। বইয়ের ভেতরে সে লিখে—

“একটা শাড়ি কেবল সাজ নয়, কখনও কখনও তা একটা বোঝাও। তবে সেই বোঝা থেকে মুক্তি পেতে হলে, মেয়েদের নিজেকে বোঝা ভাবা থামাতে হবে।”

সালমা আজও সেই সংসারে থাকে। কিন্তু সে আর আগের মতো নিঃশব্দ নয়। সে নিজের কথা বলে, নিজের কাজ করে, নিজের নাম তৈরি করছে।

সে আর কারও ছায়া নয়। সে নিজেই নিজের আলো।

Disclaimer / Story Policy

This story is entirely fictional. Any resemblance to actual events, characters, places, or times is purely coincidental. The primary purpose of our stories is to entertain readers and present various social or emotional perspectives.

We do not intend to provoke anyone, incite violence, or cause defamation in any way. Every individual and culture is different, and we deeply respect that. Our stories are not meant to hurt anyone’s feelings or beliefs.

If any part of the story resembles your personal life, it is completely unintentional and coincidental. We do not hold responsibility for such similarities.

"এই গল্পটি ‘জীবন যুদ্ধ গল্প.কম’ ওয়েবসাইটের নিজস্ব প্রকাশনা। আমাদের অনুমতি ছাড়া এই গল্প বা এর কোনো অংশ অন্য কোথাও প্রকাশ, অনুলিপি বা ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনে ব্যবহার করতে চাইলে, অনুগ্রহ করে আমাদের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করুন।" Jibonjuddhogolpo@gmail.com