আমি অপরাধী, কারণ আমি গরিব ছিলাম।
হ্যাঁ, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দোষ ছিল গরিব হওয়া। সেই দোষেই আমি একজন মানুষকে হারিয়েছি, যাকে ভেবেছিলাম আমার পৃথিবী—রিতা।
এক সময় আমরা একে অপরের জন্য জীবন দিতেও দ্বিধা করতাম না। রিতা বলত, “তুমি ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না।” আমি বিশ্বাস করতাম তার প্রতিটি কথা। ওর প্রতিটি হাসি, প্রতিটি চোখের জল আমার জীবনের প্রেরণা ছিল। আমি স্বপ্ন দেখতাম—একসাথে ঘর, সন্তান, এক চিলতে আকাশ। অথচ সেই মানুষটাই একদিন টাকার লোভে আমায় ছেড়ে অন্য কারো হয়ে গেল।
রিতা ভালোবাসেনি, বেছে নিয়েছে অর্থ। আমি ছিলাম তার কাছে অপ্রতুল, অথচ আমি তাকে আমার সবটুকু দিয়ে ভালোবেসেছিলাম। সে বিয়ে করেছিল একজন ব্যবসায়ীকে, যে ছিল ধনী, যার গায়ে দামি পারফিউম, যার পকেটে ছিল গর্ব, আর চোখে ছিল অবহেলা। সে ভেবেছিল টাকাই সুখ—ভেবেছিল আমি শুধু একজন স্বপ্নবাজ, আর সেই মানুষটা বাস্তব।
কিন্তু ভাগ্যের খেলা বড় অদ্ভুত। যার কাছে সে গিয়েছিল, তার ব্যবসা ধসে পড়ে, জীবনটা হয়ে পড়ে চেনা ছায়াহীন এক সন্ধ্যা। আর তখন? তখন রিতা দেখেছে বাস্তবতা, অনুভব করেছে হারানোর তীব্রতা।
আর আমি? আমি ভেঙে পড়েছিলাম, সত্যি। বুকের ভেতর শূন্যতা ছিল, রাতগুলো কান্নায় ভেজা। কিন্তু আমি হারিনি।
আমি জীবনকে থামতে দিইনি।
মেইন রোডের পাশে আমার বাবার একটা পুরোনো জমি ছিল। সাহস করে সেই জমিতে একা দাঁড়িয়ে বলেছিলাম—"এখানে একদিন স্বপ্ন গড়ে উঠবে।"
ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি, দিনের পর দিন নিজের ঘামে ভিজে আমি একটা মার্কেট তৈরি করেছি।
এখন আমি সফল, নিজের জায়গায় নিজে দাঁড়ানো একজন মানুষ।
আমি আর রিতার কষ্টকে বয়ে বেড়াই না। কারণ আমি শিখেছি—জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না।
আমি বিয়ে করেছি। কিন্তু এবার এমন একজনকে বেছে নিয়েছি, যে আমাকে ভালোবাসে, আমার প্রতিটি কষ্ট বুঝতে জানে, পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি শুধু দেয় না, তা প্রতিদিন প্রমাণ করে। তার নাম আশামনী।
আশামনী ভালোবাসে আমায় ঠিক তেমনভাবেই, যেভাবে আমি একদিন কাউকে ভালোবেসেছিলাম।
আমি তাকে বিয়ে করিনি শুধু জীবন কাটানোর জন্য, আমি তাকে বিয়ে করেছি নিজের সম্মান রক্ষার জন্য, নিজের হৃদয়ের প্রতিদান দেওয়ার জন্য।
আজ রিতা আবার আমার কাছে ফিরে আসতে চায়। সে ভাবে আমি হয়তো এখনো তার জন্য অপেক্ষা করি।
সে এখন বোঝে, সে হিরা রেখে কয়লার কাছে গিয়েছিল।
সে এখন বোঝে, ভালোবাসা বিক্রি করার জিনিস নয়।
কিন্তু আমি আর ফিরে যাই না অতীতে। আমি দাঁড়িয়ে থাকি বর্তমানের শক্ত মাটিতে।
রিতা ফিরে যায়… কারণ আমি তাকে আর চিনি না।
