গল্প: পিছন থেকে আঘাত
গল্প:
রিফাত আর তানভীর — দুই বন্ধু, একই পাড়া, একসাথে বড় হওয়া। সবাই বলত, “ওরা হলো দুই দেহ এক প্রাণ।” ছোটবেলায় একসাথে স্কুল, খেলাধুলা, এমনকি একই কলেজে ভর্তি। রিফাত ছিল একটু শান্ত আর পরিশ্রমী, সবসময় নিজের কাজ করত নিঃশব্দে। আর তানভীর ছিল একটু চালাক, চটপটে, আর সহজে মানুষের মন জয় করতে পারত।
কিন্তু বন্ধুত্বের ভিতরে জন্ম নিচ্ছিল ঈর্ষা।
রিফাত নিজের পরিশ্রমে একটা বড় স্কলারশিপ পেলো, বিদেশে পড়ার সুযোগ। তানভীর তখন একটা চাকরির জন্য অপেক্ষা করছিল, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল।
তানভীরের মনে খোঁচা লাগল – “রিফাত তো সবসময় আমার পাশে ছিল, আমার থেকে কবে এগিয়ে গেল?”
🎭 বিশ্বাসভঙ্গের সূচনা
রিফাত যাওয়ার আগে তানভীরকে বলল, “ভাই, আমার অ্যাকাউন্ট আর কাগজপত্র একটু সামলে রাখিস। আমি তোকে ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করি না।”
তানভীর বাহ্যিকভাবে হেসে সম্মতি দিলো, কিন্তু ভিতরে ভিতরে সে ভাবল, “সবকিছু ও পাচ্ছে, আর আমি? আমি কি বসে থাকব?”
একদিন রিফাত হঠাৎ ফিরে আসে। তানভীরের ঘরে গিয়ে দেখে—সে রিফাতের নামে লোন নিয়েছে, কিছু টাকা আত্মসাৎ করেছে, এমনকি রিফাতের নামে কিছু বদনাম রটিয়েছে।
রিফাত কিছু না বলে চুপচাপ ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যাওয়ার সময় বলেছিল:
> “আমি তোকে ভাই ভেবেছিলাম, আর তুই আমাকে পেছন থেকে ছুরি মারলি। আজ তুই হয়তো জিতেছিস টাকার খেলা, কিন্তু হেরেছিস একজন ভাইয়ের বিশ্বাস।”
শিক্ষা:
বছরখানেক পর তানভীর একদিন একা বসে। চাকরি নেই, সম্মান নেই। রিফাত এখন বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।
একদিন পত্রিকায় পড়ে—রিফাত একটা ট্রাস্ট খুলেছে, যেখানে বন্ধু betrayed (বিশ্বাসভঙ্গ)-এর গল্প নিয়ে মানুষকে সচেতন করে।
তানভীর বুঝতে পারে, সে শুধু একটা বন্ধু নয়, একটা আয়না ভেঙেছে। কারণ—
> বিশ্বাস এমন এক আয়না, যা ভাঙলে জোড়া লাগে না। আর কেউ যখন তোমাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে, সেটাই তার সবচেয়ে বড় সাহস... আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
