“প্রেমিকা ছাড়া বেঁচে থাকা কঠিন”
কাহিনী শুরু হয়…
শহরের গলির শেষ মাথায় থাকে বাবলু।
বাবলুর চেহারা দেখে বোঝা যায়, সে জন্মেছে প্রেম করার জন্যই।
চোখে সবসময় ঘুম, হাতে সস্তা ফুল, আর মুখে কানে কানে গান গাওয়ার ভঙ্গি—
যেন “প্রেম ছাড়া জীবন মানেই শূন্য” তার জন্মস্লোগান।
প্রথম প্রেমে ধাক্কা
বাবলু একদিন ফেসবুকে এক মেয়েকে অ্যাড দিলো।
প্রোফাইল পিকচারে মেয়েটার ফুলঝুরি লাইক—বাবলু দেখে হাফ ছাড়লো,
“এটাই হবে আমার জীবনসঙ্গিনী।”
কথা শুরু হলো, দুদিনেই বাবলু মেয়েটাকে ডাকনাম দিলো—“চাঁদনী”।
চাঁদনী একদিন বললো,
> “তুমি কি আমাকে সত্যি ভালোবাসো?”
বাবলু একদম নাটকীয় ভঙ্গিতে উত্তর দিলো,
> “ভালোবাসা? আমি তো তোমার জন্য নাকি ভাতও খাবো না, পানি খেয়েই বাঁচবো!”
চাঁদনী হাসলো, কিন্তু ভাবলো—“এ পাগলটা খালি ভাত খায় নাকি প্রেমও খায়?”
প্রেম ছাড়া টিকে থাকা অসম্ভব
চাঁদনী একদিন রাগ করে তিনদিন ফোন ধরলো না।
এই তিনদিনে বাবলুর জীবন কেমন হলো?
প্রথম দিন: সে চায়ের দোকানে বসে পাঁচ কাপ চা খেলো, সবাইকে বললো—“আমি আজ সিঙ্গেল, খুশি!”
কিন্তু চোখের নিচে কালি পড়তে শুরু করলো।
দ্বিতীয় দিন: সে আয়নায় তাকিয়ে নিজের সাথে কথা বললো,
> “বাবলু, তুই Handsome, চাঁদনী না হোক অন্য মেয়ে তোকে চাইবেই।”
কিন্তু পাশের বাড়ির বাচ্চারা হেসে বললো—“আঙ্কেল, আপনি নাকি Handsome? হাহাহা।”
তৃতীয় দিন: বাবলু রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ট্রাফিক পুলিশের কাছে গিয়ে বললো,
> “ভাই, আমার প্রেমিকা হারিয়েছে, আমাকে একটু Fine করেন।”
পুলিশ অবাক হয়ে বললো—“প্রেমিকা হারানো অপরাধ নাকি?”
প্রেমিকার রিটার্ন
অবশেষে চাঁদনী আবার ফোন ধরলো।
বাবলু খুশি হয়ে এমন নাচলো, পাশের বাসার ছাগলও ভয় পেয়ে গাছে উঠে গেলো।
চাঁদনী বললো,
> “তুমি কি পাগল হয়ে গেছো?”
বাবলু গম্ভীর গলায় উত্তর দিলো,
“তুমি ছাড়া জীবনটা WiFi ছাড়া মোবাইলের মতো।”
শেষ পরিণতি
প্রেমে বাবলু এতটাই পাগল হলো যে, বন্ধুরা তাকে ডাকতে শুরু করলো—“প্রেমের স্যুপারম্যান।”
কিন্তু প্রেমিকা ছাড়া দিনগুলোয় সে হয়ে যেতো—
মোবাইল ছাড়া চার্জার,
বৃষ্টি ছাড়া মেঘ,
আর ভাত ছাড়া আলুভর্তা।
তার জীবন মানে—
“প্রেমিকা থাকলে স্বর্গ, না থাকলে চিরন্তন ধ্বংস।”
প্রেম মিষ্টি জিনিস, কিন্তু সেটা ছাড়া বেঁচে থাকার ড্রামা করলে আশেপাশের সবাই মজা পায়।
কারণ প্রেমে পাগল হওয়া যতটা সহজ, প্রেম ছাড়া জীবন সামলানো তার চেয়ে অনেক কঠিন—
বিশেষ করে বাবলুর মতো প্রেমবাজদের জন্য। 😆
