মানুষের টাকা হলে খুব অহংকার ভারে, মানুষকে তারা মানুষ মনে করে না!

তাহলে শোনো

তাহলে শোনো

একটা ছোট্ট গ্রামে ছিল রাশেদ নামের এক তরুণ। ছেলেটা ছোটবেলা থেকেই সবার কাছে দারুণ প্রিয় ছিল, কারণ সে মানুষের জন্য ভালোবাসা দিয়ে বাঁচত। স্কুলে যদি কারও খাতা না থাকে, রাশেদ নিজের খাতা ছিঁড়ে দিত; কারও বাসায় খাবার না থাকলে নিজের থালা থেকে ভাগ করে দিত। সবাই বলত, “রাশেদ মানুষকে ভালোবাসতে জানে, তাই মানুষও তাকে ভালোবাসে।”

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রাশেদ শহরে গেল। শহরে গিয়ে দেখল—এখানে মানুষকে ভালোবাসা নয়, টাকাই সব। এক বন্ধু চাকরি পেলেই আরেকজন হিংসায় কাঁপে, প্রতিবেশী যদি একটু উন্নতি করে তবে অন্যজন তাকে নিচে নামানোর চেষ্টা করে। মানুষের চোখে চোখে আর ভালোবাসা নেই, শুধু হিসাব—“সে কত টাকা রোজগার করল, কী গাড়ি কিনল, কোন ফ্ল্যাটে উঠল।”

একদিন রাশেদ এক বয়স্ক ভিক্ষুককে দেখে থমকে দাঁড়াল। ভিক্ষুক বলল—

“বাবা, মানুষকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছিলো ভালোবাসা ছড়াতে। টাকা বানানো হয়েছিলো কেবল বেঁচে থাকার সুবিধার জন্য। অথচ আজ মানুষ টাকা ভালোবাসে, মানুষকেই ব্যবহার করে।”

কথাগুলো রাশেদের হৃদয়ে আগুন ধরিয়ে দিল। সে দেখল, ধনী ব্যবসায়ী তার কর্মচারীকে মানুষ হিসেবে দেখে না—শুধু মুনাফার যন্ত্র ভাবে। আবার প্রেমিক প্রেমিকার সম্পর্কও অনেক সময় শুধু টাকার উপর দাঁড়িয়ে থাকে, ভালোবাসা নয়।

দিন যায়, বছর যায়। রাশেদ সিদ্ধান্ত নেয়, সে অন্য রকমভাবে বাঁচবে। সে ছোট্ট একটা লাইব্রেরি খোলে গ্রামের বাচ্চাদের জন্য, যেখানে বই কিনতে টাকা লাগে না। সে অসুস্থ বৃদ্ধাদের ওষুধ কিনে দেয়, কারও হাতে সাহায্য পৌঁছে দেয়। ধীরে ধীরে গ্রামে সবাই আবার মনে করতে শুরু করল—“মানুষ আসলে টাকায় নয়, ভালোবাসায় বেঁচে থাকে।”

কিন্তু শহরের লোকেরা এখনো হাসাহাসি করে বলে—“ভালোবাসা দিয়ে পেট ভরে?”

রাশেদ শুধু হেসে বলে—“টাকা দিয়ে হয়তো পেট ভরবে, কিন্তু ভালোবাসা ছাড়া মনটা চিরকাল খালি থেকে যাবে।”

👉 এভাবেই বাস্তবতার ভেতর লুকানো সত্য হলো—যতদিন মানুষ মানুষকে ব্যবহার করবে আর টাকাকে ভালোবাসবে, ততদিন দুনিয়া অন্ধকারে ডুবে থাকবে। আর যেদিন মানুষ আবার মানুষকে ভালোবাসতে শিখবে, সেদিনই পৃথিবী আবার নতুন করে আলোকিত হবে।