গল্প: "যখন সবাই ফিরিয়ে দেয়"
নাম নাজমুল হোসেন। ঢাকার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবা ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভীষণ মেধাবী, কিন্তু নিজের ভেতরটা ছিল নরম—যেখানে আত্মসম্মান আর স্বপ্ন জায়গা পেত আগে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সময়েই জীবনের সবচেয়ে বড় ঝড়টা আসে। বাবা হঠাৎ স্ট্রোক করে পক্ষাঘাতে পড়েন। পুরো সংসারের ভার এসে পড়ে তার কাঁধে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া, বাবার চিকিৎসা, সংসার চালানো—সব মিলিয়ে একপ্রকার অসম্ভব চাপ।
এই সময়ে সে যার কাছ থেকে একটু সহানুভূতি, একটু পাশে থাকার আশা করেছিল—তারা সবাই এক এক করে পিছিয়ে যায়।
বন্ধু রাকিব, যে একসময় প্রতিজ্ঞা করেছিল, “চোখে জল আসলে প্রথমে আমিই দেখব”—সে এখন সময় পায় না ফোন ধরতেও। প্রেমিকা শারমিন, যার জন্য নাজমুল রাত জেগে কবিতা লিখত—সে বলে, “তোমার জীবনে এখন শুধু বোঝা, আমি তো আর চিকিৎসক না, যত্ন নিতে পারব না”।
আত্মীয়রা বলল, “নিজের বাবার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়।” এমনকি নিজের ছোট ভাইটাও এক সময় মুখে বলে ফেলে, “তুমি তো শুধু বোঝা!”
একসময় অফিসে পার্ট-টাইম কাজ করলেও সহকর্মীরা বলত, “এই ছেলেটা হতাশাজনক। মুখে শুধু দুঃখ।” একঘরে হয়ে উঠেছিল সে। যেন জীবনের একটা পর্যায়ে দাঁড়িয়ে চারপাশটা খালি।
তবুও নাজমুল হাল ছাড়েনি। বাচ্চাদের পড়ানো শুরু করল, রাতে অনলাইন মার্কেটিং শিখল। ফ্রিল্যান্সিং শিখে বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাজ করতে লাগল। দিনে চারঘণ্টা ঘুম, বাকি সময় শুধু চেষ্টা, সংগ্রাম আর কান্না।
বছর তিনেকের মধ্যে সে হয়ে ওঠে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন এডুকেটর। ইউটিউবে নিজের সংগ্রামের গল্প বলল, লাখ লাখ ভিউ। হাজার হাজার মানুষ লিখল—“আপনার কথা আমার জীবনের আয়না”।
আর ঠিক তখনই একে একে সবাই ফিরে এল।
বন্ধু রাকিব একটা চাকরির রেফারেন্স চাইতে এল।
প্রাক্তন প্রেমিকা শারমিন ইনবক্সে লিখল—“তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছো, ভুল করেছিলাম।”
আত্মীয়রা বলল—“নাজমুল আমাদের গর্ব!”
ছোট ভাই বলল—“ভুল করেছিলাম ভাইয়া, মাফ করে দাও।”
কিন্তু নাজমুল তখন আর কাউকে তিরস্কার করেনি। শুধু একটাই কথা বলেছিল সবার উদ্দেশে—
“যখন আমি চোখে জল নিয়ে ডাকছিলাম, তখন তোমরা মুখ ফিরিয়েছিলে। আজ আমার হাসির পেছনের কান্না বোঝার প্রয়োজন নেই। কারণ সেই দিনটাই আর ফিরবে না।”
কিছুদিন পর সেই রাকিব চাকরি হারায়, শারমিনের বিয়ে ভেঙে যায়, আত্মীয়দের সন্তানরাও পথে নামে। তখন তারা বুঝতে পারে—জীবনের সবচেয়ে ভুলটা তারা করেছিল একসময়, যখন একজন ভাঙা মানুষকে একা রেখে দিয়েছিল।
---
এই গল্পটি আমাদের শেখায়:
সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না, আর যাকে একদিন সবাই ফেলে দেয়—সে যদি মন ভাঙে না, তাহলে একদিন সবার মুখ বন্ধ করে দিতে পারে। আর যারা দুর্দিনে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদেরও একদিন সেই মুখ লুকানোর জায়গা থাকে না।
Disclaimer / Story Policy
This story is entirely fictional. Any resemblance to actual events, characters, places, or times is purely coincidental. The primary purpose of our stories is to entertain readers and present various social or emotional perspectives.
We do not intend to provoke anyone, incite violence, or cause defamation in any way. Every individual and culture is different, and we deeply respect that. Our stories are not meant to hurt anyone’s feelings or beliefs.
If any part of the story resembles your personal life, it is completely unintentional and coincidental. We do not hold responsibility for such similarities.
"এই গল্পটি ‘জীবন যুদ্ধ গল্প.কম’ ওয়েবসাইটের নিজস্ব প্রকাশনা। আমাদের অনুমতি ছাড়া এই গল্প বা এর কোনো অংশ অন্য কোথাও প্রকাশ, অনুলিপি বা ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনে ব্যবহার করতে চাইলে, অনুগ্রহ করে আমাদের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করুন।" Jibonjuddhogolpo@gmail.com