গল্প: "বন্ধু যার ছদ্মবেশে"
রায়হান ও নওশাদ — স্কুলজীবনের বন্ধু।
একসাথে হেঁটেছে অনেক পথ। ক্লাসের এক বেঞ্চ, একসাথে প্রথম প্রেমের গল্প, এমনকি প্রথম মার খাওয়ার অভিজ্ঞতাও একসঙ্গে।
মানুষ বলতো,
"এই দুইজনের বন্ধুত্বে কেউ ফাটল ধরাতে পারবে না!"
কিন্তু জীবন সব সময় সরল রেখায় চলে না।
⏳ সময়ের পালা বদল…
স্কুল শেষ হলো, কলেজ পার হলো।
রায়হান পরিবারসহ ঢাকায় চলে গেলো। নওশাদ রয়ে গেলো গ্রামে। যোগাযোগ কমে এলেও বন্ধুত্বের নামটা থেকে গেলো।
বছর পাঁচেক পর রায়হান আবার গ্রামে এল।
সবাই অবাক — চোখেমুখে শহরের রঙ, কথায় আত্মবিশ্বাস। গ্রামের মেয়ে শিলা নামের এক মেয়েকে ভালোবেসে ফেলল।
নওশাদকেই বলল প্রথম:
"ভাই, শিলা আমার জীবনের গল্প হবে। তুই আছিস তো পাশে?"
নওশাদ হাসলো। "ভাই, তোকে ঠকতে দিবো না!"
---
💔 কিন্তু বন্ধুত্বের মুখোশের নিচে...
নওশাদেরও চোখ ছিল শিলার দিকে, অনেক আগে থেকে। কিন্তু মুখ ফুটে কখনো কিছু বলেনি।
সে জানতো রায়হানের শহুরে স্মার্টনেস, টাকা-পয়সা — সবই শিলার মন কেড়েছে।
তাই সে পরিকল্পনা করল — "বন্ধু হয়ে থেকে ধীরে ধীরে শত্রু হবো।"
নওশাদ গোপনে শিলার পরিবারের কানে কানে বলল:
"রায়হানের শহরে একটা বউ আছে, ও তোমাদের মেয়ে নিয়ে খেলছে।"
আর রায়হানের কাছেও গিয়ে বলত,
"ভাই, শিলার একটা ছেলে বন্ধুর সঙ্গে বেশি ঘোরাঘুরি আমি নিজ চোখে দেখছি!"
দুজনের মাঝখানে বিষ ছড়াতো প্রতিদিন —
কখনও ভদ্র কথায়, কখনও গুজব ছড়িয়ে।
---
🩹 যখন সত্যি বেরিয়ে আসে…
একদিন শিলা হঠাৎ রায়হানকে জিজ্ঞেস করল,
"তুমি কি শহরে বিয়ে করেছো?"
রায়হান বিস্ময়ে তাকিয়ে বলল,
"তুমি এসব কোথা থেকে শুনলে?"
একইরকমভাবে রায়হান জিজ্ঞেস করল,
"তুমি কি সত্যি অন্য কারও সঙ্গে ঘোরাঘুরি করো?"
সন্দেহ জমল, সম্পর্ক দুর্বল হলো।
একের পর এক ঝগড়া।
শেষ পর্যন্ত শিলা ও রায়হান বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো।
নওশাদ পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুর মুখে হাত রেখে বলেছিল,
"সময় সব ঠিক করে দেবে ভাই।"
আর মনে মনে বলছিল,
"সময় তো আমি-ই ঠিক করে দিয়েছি!"
---
🕳️ কয়েক মাস পর…
একদিন এক আত্মীয় রায়হানকে জানাল,
"তোর সেই বন্ধু নওশাদ এখন শিলার পরিবারে ঘোরাঘুরি করে।"
রায়হান স্তব্ধ।
তার মনে বাজতে থাকলো কথাগুলো —
"শত্রু কখনো কখনো বন্ধুর মতো আচরণ করবে। তার মানে এই নয়, সে তোমার বন্ধু!"
---
গল্পের শিক্ষা
রায়হান আজো বিশ্বাস করে —
"ভালোবাসা কষ্ট দেয়, কিন্তু বন্ধুর ছদ্মবেশে শত্রু — সেটা হৃদয় ভেঙে ধূলায় মিশিয়ে দেয়।"
