নাট-বল্টু আর প্রেমের সর্বনাশা গল্প
নাট আর বল্টু দুইজন অবিচ্ছেদ্য বন্ধু। নাট সবসময় নিজেকে “প্রেমের গুরু” বলে দাবি করে, আর বল্টু প্রেমে এতটাই ফাঁকিবাজ যে এখন পর্যন্ত তার সব প্রেম ৭ দিনেই ভেঙে গেছে—কারো সাথে ঝগড়া, কারো সাথে ভুল বোঝাবুঝি, আবার কখনো মেয়ের বাবা এসে “তুমি কি আসলেই পেশা কী?” জিজ্ঞেস করে তাড়িয়ে দিয়েছে।
একদিন বিকেলে চায়ের দোকানে বসে নাট বল্টুকে বলল—
– শোন বল্টু, তুই প্রেমে ফেল করার কারণ একটাই—তুই মেয়েদের সাথে কবিতা দিয়ে কথা বলিস না। মেয়েরা কবিতা শুনলেই প্রেমে পড়ে।
বল্টু চোখ বড় বড় করে বলল—
– আরে গুরু, আমি তো কবিতা শিখতেই পারি না। স্কুলে কবিতা বলার সময় টেনশন হয়ে “বাংলার ধানসাগর” এর বদলে “বাংলার মাছভাত” বলে ফেলেছিলাম!
নাট বলল—
– তোর কবিতা দরকার নেই, তুই আমার লেখা ব্যবহার করবি। আমি তো এই এলাকায় “রোমান্টিক শেক্সপিয়ার” নামে ফেমাস।
দুদিন পর, নাট নিজের বানানো প্রেমপত্র লিখে বল্টুকে দিলো। চিঠিতে লেখা—
"তুমি আকাশের চাঁদ নও, তুমি আমার জীবনের বিদ্যুৎ বিল। তোমাকে ছাড়া অন্ধকার নেমে আসে।"
বল্টু খুব খুশি হয়ে চিঠিটা প্রেমিকার হাতে দিলো। প্রেমিকা পড়েই চোখ বড় বড় করে বলল—
– তুমি কি আমাকে বিদ্যুৎ বিল বলছো? আমি কি এসি নাকি তোমার ঘরে?
বল্টু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল—
– না না, মানে… তুমি আমার জীবনের আলো!
প্রেমিকা গম্ভীর গলায় বলল—
– আলোর জন্য সোলার প্যানেল লাগাও, আমাকে বিরক্ত করো না!
এতেই শেষ নয়। নাট আরেকটা আইডিয়া দিলো—
– শোন, এবার তুই ফুল দিবি। কিন্তু ফুলের সাথে একটা চিঠি দিবি যেখানে লিখবি— তুমি গোলাপের মতো, তোমার কাঁটাও আমার প্রিয়।
বল্টু অন্ধভাবে কথাটা মেনে নিলো। পরেরদিন ফুল দিয়ে প্রেমিকাকে চিঠি দিলো। পড়ামাত্র প্রেমিকা বলল—
– ওহ, তাই নাকি? তাহলে কাল থেকে আমি কাঁটা হয়ে তোমার জীবন ঝালমুড়ি বানিয়ে দেবো!
তৃতীয়বার, নাট বল্টুকে একটা প্রেমের গান শিখিয়ে দিলো—
"তোমার চোখে আমি হারাই…"
কিন্তু নার্ভাস হয়ে মেয়ের সামনে গিয়ে বল্টু গাইলো—
"তোমার মোজায় আমি হারাই…"
মেয়েটি তখন জিজ্ঞেস করল—
– আমি কি মোজা পরা মানুষ নাকি জুতার দোকান?
শেষে, বল্টু প্রেমে ব্যর্থ হয়ে নাটকে বলল—
– গুরু, তুই আমাকে সর্বনাশ করছিস।
নাট বলল—
– আরে ভাই, প্রেমে ব্যর্থতা মানে নতুন প্রেমের জন্য জায়গা ফাঁকা হওয়া।
বল্টু গম্ভীর হয়ে উত্তর দিল—
– তাহলে তুই নিজের প্রেমের জায়গা ফাঁকা রাখ, আমি এবার ক্রিকেটে মন দিচ্ছি!
