গল্প: "নয় নম্বরের নববধূ"
হাসতে হাসতে পাগল
গ্রামের নাম “চাটখিলপুর”, আর এই গ্রামে নতুন এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি চাকরিওয়ালা রাজু কাকুর বয়স পঁয়তাল্লিশ, আর তার বউ মিষ্টি, ক্লাস নাইনে পড়ে। এই বিয়ের পর পুরো গ্রামে এখন শুধু একটা জিনিস নিয়েই আলোচনা—"এই বিয়েটা কীভাবে সম্ভব হলো?"
বিয়ের গল্পটা এমন
রাজু কাকু সরকারি অফিসে চাকরি করেন—বেতন নিয়মিত, পেনশনের গ্যারান্টি, সাথে একটা পুরাতন মোটরসাইকেল আর প্রতি শুক্রবারে অফিসে ফাঁকি দিয়ে বাজারের কাজ সেরে ফেলেন। বিয়ে করতে চাচ্ছিলেন অনেকদিন ধরেই, কিন্তু শহরের কোনো মেয়ে বিয়েতে রাজি হচ্ছিল না। কারণ, উনি শুধু বয়সে বড় না, দেখতে অনেকটা “টাইগার বাম” এর বোতলের মতো—মাথা টাক, আর চেহারায় সবসময় সরকারি ফাইলের মত গম্ভীর ভাব।
এদিকে, মিষ্টি নামের মেয়েটা ক্লাস নাইনে পড়ে, বয়স ১৫, তবে ফেসবুকে বয়স ১৯। সে জানে কিভাবে ফিল্টার দিয়ে নিজের ছবিকে মেহজাবিন বানাতে হয়। একদিন তার ফেসবুকে রাজু কাকু "Hi dear 😊" দিয়ে ইনবক্স করল। মিষ্টি প্রথমে ব্লক করতে গিয়েও ভাবল, “আরে! সরকারি চাকরি তো!” এরপর থেকেই ইনবক্সে কাকু-ভিত্তিক প্রেম শুরু।
কাকুর প্রতিদিন ইনবক্সে
"Good morning baby 🌞"
"তোমার জন্য গিফট আনব এনআইডি অফিস থেকে"
"চাইলে তোমার নামের পাশে 'Sarkari Wife' লিখে রাখবো"
এই কথায় মিষ্টির মন গলে গেল।
বিয়ের দিন
বিয়ের দিন কাকু লাল রঙের পাঞ্জাবি পরে এসেছিল, পাশে সাইকেলের হ্যান্ডেলে ঝুলছিল এক বোতল তেল আর গিফট হিসেবে পেনশনের ফাইল। মিষ্টি ছিল টিকটক ফিল্টার মেকআপে মুড়ানো, আর ফেসবুক লাইভে বলছিল,
“আজ আমি সরকারি!”
বিয়ের মঞ্চে কাকু বলল,
“এই হাত আমার সরকারী!”
আর মিষ্টি বলল,
“এই বই (স্কুলের বই) তোমার দায়িত্ব, কাকু!”
বিয়ের পরদিন
বিয়ের একদিন পর কাকু সকালে হাঁফাতে হাঁফাতে অফিস গেল আর মিষ্টি ক্লাস নাইনের বিজ্ঞান বই খুলে দেখে, স্বামীর বয়স তার বাবার থেকেও বেশি! কিন্তু মিষ্টি এখন বউ, তাই বলে,
“আমি এখন শুধু ক্লাস নাইনের না, লাইফের ও নাইনে পড়ে গেছি!”
এদিকে কাকুর জীবনেও পরিবর্তন এসেছে। এখন সে অফিসে বসে ফেসবুকে টাইমলাইন স্ক্রল করে আর ভাবে,
“অফিসের ফাইল কম, এখন বুঝি মিষ্টির হোমওয়ার্ক রিভিউ করতে হবে!”
মিষ্টির বাবা একদিন বলল,
“আমার মেয়েকে বুঝে নিয়ে বিয়ে করেছো, এখন তার ক্লাস টেস্টেও পাশ করাও!”
রাজু কাকু কপাল চুলকে বলল,
“চাকরি করি সরকারি, কিন্তু বউ বুঝি সরকারি কোচিং প্রোগ্রাম হয়ে গেল!”
