পুরুষ মানুষ এর জীবন খুব কঠিন, যতো বয়স হয় শান্তি তত কমে!

পুরুষ মানুষের জীবন – বয়স বাড়ার সাথে সাথে শান্তি কমে যাওয়া বাস্তবতা

পুরুষ মানুষ কাঁদে না।

পুরুষ মানুষ জন্মের পর থেকেই যেন দায়িত্বের পাহাড় নিয়ে পৃথিবীতে আসে। ছোটবেলায় যখন সে খেলে, হাসে, দৌড়ায় – তখন সবাই তাকে বলে,

“বড় হয়ে সংসারের হাল ধরবি।”

শিশুকালেও তার মাথায় দায়িত্বের ছায়া চাপিয়ে দেওয়া হয়।

যখন তরুণ হয়, তখন আবার নতুন যুদ্ধ। পড়াশোনা, চাকরি, ক্যারিয়ার—সবকিছু সামলাতে হয়। চারপাশে সবাই শুধু একটাই প্রশ্ন করে,

“কী করছো জীবনে?”

মায়ের চোখে সে তখন সংসারের আশা, বাবার চোখে সে দায়িত্বের উত্তরাধিকার, আর সমাজের চোখে সে প্রতিযোগিতার সৈনিক।

চাকরি পেলেও শান্তি নেই। বেতন তুললেই পরিবারের চাহিদা, সমাজের চাপ, আর নিজের অগণিত স্বপ্নের ভিড় এসে পড়ে। বিয়ে করলে শান্তি আরও কমে যায়—কারণ তখন কেবল নিজের নয়, স্ত্রীর, সন্তানের, পরিবারের সব দায়িত্ব তার কাঁধে এসে জমা হয়।

বয়স যত বাড়তে থাকে, বোঝা তত বাড়ে। সন্তান বড় হলে তাদের ভবিষ্যৎ, পড়াশোনা, বিয়ে, প্রতিষ্ঠা—সবকিছুই আবার তার চিন্তা।

মজার বিষয় হলো, পরিবারের সবাই ভাবে পুরুষ মানুষ সবকিছু পারবে, সবসময় শক্ত থাকবে। অথচ ভেতরে ভেতরে সেই মানুষটাও কাঁদে, দম আটকে যায়, চাপা কষ্টে ভেঙে পড়ে। কিন্তু চোখের পানি দেখানোরও সুযোগ নেই, কারণ সমাজ শিখিয়েছে—

“পুরুষ মানুষ কাঁদে না।”

অবসরের বয়সে এসে যখন শরীর দুর্বল হয়, তখনও শান্তি আসে না। তখন চিন্তা হয়—“সন্তানরা কি পাশে থাকবে? আমার জন্য সময় হবে তো?”

এমনকি বার্ধক্যেও পুরুষ মানুষ অনেক সময় একা হয়ে যায়। যাদের জন্য সারাজীবন যুদ্ধ করেছে, সেই পরিবারও অনেকসময় তার কষ্ট বোঝে না।

বাস্তব শিক্ষা

পুরুষ মানুষের জীবন কখনো সহজ নয়।

যত বয়স বাড়ে, তার স্বাধীনতা কমে যায়, দায়িত্ব বাড়তে থাকে।

সমাজে সবাই ভাবে পুরুষ মানেই শক্ত, কিন্তু বাস্তবে তার ভেতরে থাকে হাজারো চাপা কান্না।

জীবনের প্রতিটি ধাপে পুরুষ মানুষকে শুধু দৌড়াতে হয়, থেমে শান্তি খোঁজার সুযোগ খুব কমই মেলে।