অমানুষের মুখোশ – নীলার বিয়ের গল্প
নীলা ছিল গ্রামের সবার চোখের মণি। সুন্দর চেহারা, ভালো পড়াশোনা, ভদ্র ব্যবহার—সব মিলিয়ে তার বাবা-মা সবসময় চাইত, যেন মেয়ের বিয়ে ভালো ঘরে হয়। কিন্তু গ্রামের মানুষজনের মতো তার বাবা-মাও একটা বড় ভুলে বিশ্বাস করত—“ভালো জামাই মানেই টাকাওয়ালা জামাই।”
একদিন সম্বন্ধ এল শহর থেকে। ছেলেটি বিদেশে চাকরি করে, পরিবার বেশ ধনী। বাবা-মা আর দেরি করলেন না। তাদের চোখে শুধু একটাই জিনিস—ছেলেটি টাকা আয় করে, মেয়ে যাবে সুখের সংসারে।
কিন্তু তারা ঠিক মতো খোঁজ নিলেন না। ছেলেটা কেমন মানুষ? নেশা করে কি না? মানসিকভাবে সুস্থ তো? পরিবারের ভেতরে কোনো সমস্যা আছে কি না? এসব কিছু জানার দরকার মনে করলেন না।
বিয়ের পরের বাস্তবতা
বিয়ের দিন আড়ম্বর করে হলো। গ্রামের মানুষ বলল,
— “নীলা তো একেবারে রাজপ্রাসাদে চলে গেল!”
কিন্তু নীলার জীবনের গল্প শুরু হল অন্যভাবে।
বিদেশ ফেরত জামাই রিফাত আসলে ছিল এক ভয়ংকর চরিত্র।
বাইরে থেকে ভদ্র, ভিতরে ভয়ংকর মেজাজী।
মদ আর নেশা ছিল তার নিত্যসঙ্গী।
সামান্য কারণে নীলাকে মারধর করত।
রিফাতের পরিবারও মেয়েদের সম্মান করত না, সবসময় দোষ দিত নীলাকেই।
নীলা ধীরে ধীরে বুঝল—সে মানুষ নয়, অমানুষের সাথে সংসার করছে।
বাবা-মায়ের আফসোস
নীলা একদিন কাঁদতে কাঁদতে ফোন করল বাবাকে।
— “বাবা, তুমি তো খোঁজ নাওনি… তুমি শুধু টাকার কথা ভেবেছো। আমি তো সুখী নই, বাবা।”
বাবা তখন মাথায় হাত দিয়ে বসে রইলেন।
— “আমরা ভেবেছিলাম টাকাই সব সুখ এনে দেবে। কিন্তু আমরা বুঝিনি, আসল সুখ তো ভালো মানুষের সাথে সংসার করার মধ্যে।”
গল্পের শিক্ষা
অসংখ্য মেয়ের জীবন এমন ভেঙে যায় শুধু বাবা-মায়ের অবহেলার কারণে।
ছেলে যদি নেশাগ্রস্ত হয়, মানসিকভাবে অসুস্থ হয় বা খারাপ চরিত্রের হয়—তাহলে সেই টাকার কোনো মূল্য নেই।
কারণ টাকার চেয়ে বড় হলো মানুষের চরিত্র, পরিবার, আর মনুষ্যত্ব।
মেয়ে বিয়ে দেওয়ার আগে শুধু টাকা-পয়সা, বাড়িঘর বা চাকরি দেখলে হবে না।
খোঁজ নিতে হবে ছেলে সত্যিই ভালো মানুষ কি না।
সে মদ, গাঁজা বা অন্য কোনো নেশায় আসক্ত কি না।
মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন কি না।
পরিবারের পরিবেশ কেমন।
কারণ টাকা দিয়ে সংসার চলে, কিন্তু সুখ পাওয়া যায় না। সুখ আসে তখনই, যখন মেয়ে এমন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় যে সত্যিই মানুষ।
