ভুল বোঝাবুঝি – হাসপাতালের সেই দিন
রাফি হঠাৎ ফোন পেল তার কলেজের পুরনো বান্ধবী নিশার কাছ থেকে। নিশা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পুরনো বন্ধুত্বের টানে রাফি ছুটে গেল তাকে দেখতে।
হাসপাতালে ঢুকে যখন ও রিসেপশনে দাঁড়ালো, তখন নার্স একটু কড়া গলায় জিজ্ঞেস করল,
— “আপনি কার সাথে দেখা করবেন?”
রাফি একটু হাসি দিয়ে বলল,
— “আমার বন্ধু, নিশা। ওর জন্যই এসেছি।”
কাগজপত্র দেখে নার্স মাথা নেড়ে বলল,
— “ঠিক আছে, ৩০৩ নম্বর ওয়ার্ডে যান।”
রাফি হালকা দৌড়েই ঢুকে পড়ল ওয়ার্ডে। নিশাকে বিছানায় শুয়ে দেখতে পেয়ে সে হাফ ছাড়ল।
— “কেমন আছিস? খুব টেনশন হচ্ছিল।”
নিশা একটু হেসে বলল,
— “এই তো, সর্দি-জ্বরটাই বুকে নেমে গিয়েছিল। তাই ডাক্তার ভর্তি করেছে। এত চিন্তা করিস না।”
রাফি আরাম করে চেয়ার টেনে বসল। তখনই হঠাৎ এক নার্স ঢুকে এল হাতে কিছু কাগজ নিয়ে। নার্স মুখ ঘুরিয়ে রাফির দিকে তাকিয়ে বলল,
— “অভিনন্দন! আপনি বাবা হতে চলেছেন।”
মুহূর্তেই রাফির চোখ বড় বড় হয়ে গেল। নিশা তো হেসেই লুটোপুটি!
রাফি তোতলাতে তোতলাতে বলল,
— “আ…আ… আমি কি? বাবা?! কই আমি তো কিছু জানি না!”
নার্স অবাক হয়ে তাকাল,
— “আপনি তো সঙ্গী হয়ে এসেছেন, তাই না?”
নিশা তখন হাসতে হাসতে কাত হয়ে বলল,
— “না আপা, এটা আমার পুরনো বন্ধু। বাবা হওয়ার খবরটা একটু আগে আমার হাজব্যান্ডকে দিয়েছেন। উনি তো পাশের ফার্মেসিতে গেছেন। ভুল করে এটার গায়ে নাম লেখা ছিল না, তাই ওকে বললেন।”
নার্স তখন লজ্জায় লাল। মুখ ঢাকতে ঢাকতে বলল,
— “আরে স্যার, দুঃখিত! ভুল হয়ে গেছে।”
কিন্তু ততক্ষণে পুরো ওয়ার্ডের অন্য রোগীরা রাফির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করছে—
“এই তো! এত কম বয়সে বাবা হয়ে গেল!”
রাফি মাথায় হাত দিয়ে বিড়বিড় করে বলছে,
— “বন্ধুকে দেখতে এলাম, বাবা হয়ে ফিরছি!”
বের হবার সময়েও রাফিকে বারবার হাসতে হাসতে আটকাচ্ছিল ওয়ার্ডের সবাই। আর নিশা পরে সবাইকে গল্প করে বলত,
— “রাফি তো আমার সন্তান জন্ম নেয়ার আগেই বাবা হয়ে গিয়েছিল, তবে ভুল বোঝাবুঝিতে!”
