ক্ষমতা হাতে না থাকলে সবাই তোমাকে পিষে ফেলবে—এটা শুধু ভয় দেখানোর কথা নয়, বাস্তবের এক নির্মম রূপ। সমাজের চাকা যে নিয়মে ঘোরে সেখানে যে শক্তিহীন, যে দরিদ্র, তার কথা কেউ শোনে না, তার অশ্রু মাটিতেই শুকিয়ে যায়। ইতিহাসের পাতা খুললেই দেখা যায়—যার হাতে বল, প্রভাব, সম্পদ, সেই নিয়ন্ত্রণ করেছে নিয়ম, ভাগ করেছে হালুয়া, আর দুর্বলরা দাঁড়িয়ে থেকেছে পান্তা ভাতের আশায়। ক্ষমতা মানে শুধু রাজনৈতিক চেয়ার নয়; জ্ঞান, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, অর্থনৈতিক সামর্থ্য—সবকিছু মিলেই মানুষের শক্তি।
শহরের ভিড়ে যখন কেউ নিজের অধিকার দাবি করতে চায়, তখন চারপাশের বড় মুখরা তাকে চেপে রাখে। তুমি যদি প্রতিবাদ না করতে পারো, যদি তোমার পাশে কেউ না দাঁড়ায়, তবে তোমার কান্নার শব্দও ভেসে যায় হাওয়ায়। ঠিক যেমন ছবিতে দেখা যায়—একজন তার সামান্য জীবনের জন্য ফোঁটা ফোঁটা আশা খুঁজছে, আর ক্ষমতাবান ব্যক্তি অবিরাম গিলে যাচ্ছে সমস্ত প্রাপ্তি। এটাই বাস্তবতার নগ্ন রূপ; তুমি যদি নিজের জায়গা তৈরি না করো, তোমার অস্তিত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার কেউ থাকবে না।
তাহলে কি সব শেষ? না, শক্তি অর্জন মানেই অন্যকে পিষে ফেলা নয়। বরং নিজেকে গড়ে তোলা, দক্ষতা বাড়ানো, নিজের অধিকার নিয়ে সচেতন হওয়া, সমাজের সঙ্গে দাঁড়ানো—এইগুলোই সত্যিকারের শক্তি। যে ব্যক্তি নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে শেখে, সে-ই আসল ক্ষমতাবান। আর একা না থেকে মানুষ মানুষকে হাত ধরে টেনে তুললে, তখন শক্তি শুধু এক জনের নয়, সবার হয়।
বাস্তব শিক্ষা হলো—ক্ষমতাহীন অবস্থায় আশা করে বসে থাকলে কেবল ধূলি ঝরবে; কিন্তু নিজের মস্তিষ্ক, পরিশ্রম আর ঐক্য যদি শক্তির রূপ নেয়, তবে কোনো শোষকই তোমার প্রাপ্য কেড়ে নিতে পারবে না। তাই ভেঙে পড়া নয়, নিজেকে গড়ে তোলো; অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়াও। শক্তি মানে শুধু পেশির জোর নয়, সঠিক চিন্তা, সঠিক কণ্ঠস্বর, এবং একসাথে দাঁড়ানোর সাহস। তখন আর কেউ তোমাকে পিষতে পারবে না, বরং তুমিই হয়ে উঠবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক জাগ্রত স্বাক্ষর।
