গল্প: “জুতা ছিঁড়ে যায়, ভালোবাসা না” | বাবার কষ্টে সন্তান প্রতিষ্ঠিত

 গল্প: “জুতা ছিঁড়ে যায়, ভালোবাসা না”

গল্প: “জুতা ছিঁড়ে যায়, ভালোবাসা না”

সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামে গরিব ঘরের ছেলে হাফিজুর রহমান, সবাই ডাকে হাফিজ বলে। চাষাভুষো বাড়ি, বাবা ছিলেন কামলা, মা গৃহিণী। পায়ে কখনো জুতা উঠেনি ঠিকঠাক করে, তবু মুখে ছিল স্বপ্ন—ছেলে মানুষ হবে, শহরে গিয়ে পড়বে, চাকরি করবে।

হাফিজ ক্লাস থ্রি তে পড়াকালীন, তার মা মারা যায়। বাবা ইসমাইল মিয়া তখন শুধু একটাই কথা বলেন,

“তোরে মানুষ করতাম বইলেই তো আল্লাহরে কইছি, ওরে আমারে যত ইচ্ছা কষ্ট দে।”

তারপর থেকে ইসমাইল মিয়া কাজ করে ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। কাঠ কেটে দেয়, জমি চাষ করে, বাজারে লোড-আনলোড করে। দিনের শেষে হাফিজের জন্য একটা পুরোনো খাতা নিয়ে ফেরে। হাফিজ তখন নিজের হাতে চা বানিয়ে দেয় বাবাকে। দুজন বসে একটা ফাটা পাটি বিছিয়ে গল্প করে—

“বাবা, আমি বড় হয়ে তোমারে গাড়িতে চড়ামু।”

ইসমাইল হেসে বলেন,

“আমি গাড়ি চাইনাই রে পাগল, তুই যদি একদিন ডাক্তার বানাস, তাতেই চলবো।”

গ্রামের হেডমাস্টার দেখে হাফিজের চোখে আগুন। ভর্তি করে দেয় শহরের হাই স্কুলে। ইসমাইল সেই দিন থেকে প্রতিদিন দুই বেলা না খেয়ে টাকা জমাতে থাকে। কখনো পায়ে ছেঁড়া প্লাস্টিকের জুতা, কখনো খালি পা—তবু ছেলে যেন পড়ালেখা ছাড়ে না।

শহরে গিয়ে হাফিজ নতুন জীবন দেখে—আলোকিত রাস্তা, দামি খাবার, branded জামা। প্রথম প্রথম হাফিজ খাপ খাওয়াতে পারেনি, ক্লাসে কেউ পাশে বসতো না। বলতো, “এই গরিবের ঘ্রাণ লাগে।”

তবু সে রোজ রাতে বাবাকে চিঠি লিখতো—

“বাবা, আমি কিছুতেই হারব না। তুমি পেট খালি রেখো না।”

ইসমাইল একদিন হাট থেকে ফেরার পথে মাটিতে পড়ে যায়। হার্টে সমস্যা। কিন্তু হাসপাতালে যাওয়ার টাকা নেই। নিজের জমির দলিল বন্ধক রাখে, তারপর চিকিৎসা করায়।

এদিকে হাফিজ ভর্তি হয় মেডিকেল কলেজে। কনভোকেশনের দিন বাবাকে নিয়ে আসে। সবার সামনে দাঁড়িয়ে বলে,

“আজ আমি ডাক্তার, কারণ একজন কাঠ কাটার মজুর তার জীবন কেটে দিয়েছে আমার পেছনে।”

সবার চোখে জল। বাবা দাঁড়িয়ে থাকে একপাশে, পায়ে পুরোনো স্যান্ডেল, গায়ে সাদা লুঙ্গি আর একটা পাতলা গেঞ্জি। কেউ কেউ অবজ্ঞার চোখে তাকায়, কিন্তু হাফিজ বাবার পা ধরে বলে,

“জুতা ছিঁড়ে গেলেও, বাবার ভালোবাসা কখনো ছেঁড়ে না।”

আজ হাফিজ বড় ডাক্তার। বিদেশেও অফার আসে, কিন্তু সে গ্রামের এক ক্লিনিকে চাকরি নেয়। কারণ ও জানে,

“যে বাবা মাটি কাটে, তার ছেলেকে মাটির মানুষই থাকতে হয়। কারণ শেকড় না থাকলে কোনো ডালপালা টিকে না।”

এখন ইসমাইল মিয়া আর কাঠ কাটে না। প্রতিদিন দুপুরে হাফিজ নিজে খাবার তুলে দেয় বাবার সামনে।

“তোমার যত বয়স হোক, আমি এখনো তোমারই খোকা।”

বাবা শুধু চুপ করে হেসে বলেন,

“তুই বুঝলি না রে… বাবা হওয়া মানেই, নিজের স্বপ্ন পুড়িয়ে ছেলের জন্য আলো জ্বালানো।”

Disclaimer / Story Policy

This story is entirely fictional. Any resemblance to actual events, characters, places, or times is purely coincidental. The primary purpose of our stories is to entertain readers and present various social or emotional perspectives.

We do not intend to provoke anyone, incite violence, or cause defamation in any way. Every individual and culture is different, and we deeply respect that. Our stories are not meant to hurt anyone’s feelings or beliefs.

If any part of the story resembles your personal life, it is completely unintentional and coincidental. We do not hold responsibility for such similarities.

"এই গল্পটি ‘জীবন যুদ্ধ গল্প.কম’ ওয়েবসাইটের নিজস্ব প্রকাশনা। আমাদের অনুমতি ছাড়া এই গল্প বা এর কোনো অংশ অন্য কোথাও প্রকাশ, অনুলিপি বা ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনে ব্যবহার করতে চাইলে, অনুগ্রহ করে আমাদের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করুন।" Jibonjuddhogolpo@gmail.com