পরকীয়ার অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া নারী – রুবিনার গল্প
রুবিনা ছিল এক সাধারণ গৃহিণী। স্বামী শহিদ একজন স্কুলশিক্ষক। জীবনটা হয়তো বিলাসী ছিল না, কিন্তু সুখী ছিল। শহিদ সকালবেলা স্কুলে যেত, ফেরার পথে বাজার করে আনতো। রুবিনার হাতে টাকা তুলে দিয়ে বলতো—
👉 "এই নাও, ঘরটা ভালো করে চালাও, বাচ্চাদের পড়াশোনার দিকে খেয়াল রেখো।"
তাদের দুই সন্তান—সাত বছরের রিমি আর দশ বছরের রাফি। ওরা বাবাকে খুব ভালোবাসতো, কিন্তু মায়ের সঙ্গে থাকতো একটু দূরত্বে। কারণ, মা সবসময় অস্থির থাকতো, মোবাইলে ব্যস্ত থাকতো।
একদিন হঠাৎ রুবিনার জীবনে আসে এক নতুন ছায়া—তাদের এলাকায় নতুন আসা ব্যবসায়ী রানা। বয়সে শহিদের থেকে একটু কম, স্টাইলিশ, কথাবার্তায় মিষ্টি। শুরুতে রুবিনার সঙ্গে হালকা আলাপ, তারপর আস্তে আস্তে ফেসবুক চ্যাট, ফোনকল, বাইরে কফিশপে দেখা।
শহিদ বুঝতে শুরু করলো কিছু একটা হচ্ছে। রাতে ঘুম ভেঙে দেখে, রুবিনা বারান্দায় দাঁড়িয়ে মোবাইলে ফিসফিস করে কথা বলছে।
শহিদ একদিন বলল—
👉 "রুবি, তুমি কি আমাকে কিছু লুকাচ্ছো? তোমার এই পরিবর্তন কেন?"
রুবিনা বিরক্ত হয়ে উত্তর দিলো—
👉 "সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছো কেন? একটু বন্ধুদের সাথে কথা বললেই সমস্যা?"
শহিদ চুপ হয়ে গেল। ভেবেছিল হয়তো সাময়িক। কিন্তু দিন দিন রুবিনার দূরত্ব বাড়তেই লাগলো।
সংসারের ভাঙন
রুবিনা রানার সাথে মেতে উঠলো এতটাই যে, নিজের সন্তানদেরও অবহেলা করতে লাগলো। রিমি একদিন স্কুলের হোমওয়ার্ক নিয়ে মায়ের কাছে এলো—
👉 "মা, তুমি আমার হোমওয়ার্কটা দেখে দেবে?"
রুবিনা ফোনে মগ্ন, হাত নেড়ে বলল—
👉 "যাও, বাবাকে বলো।"
রাফি একদিন বাবাকে বললো—
👉 "আব্বু, মা আমাদের ভালোবাসে না কেন?"
শহিদের বুকটা হুহু করে উঠলো। তবুও সে স্ত্রীকে ফেরানোর চেষ্টা করলো। রাতের খাবারের টেবিলে বললো—
👉 "রুবি, তুমি যদি কোনো ভুল পথে চলে যাও, তার ধ্বংস শুধু তোমার না—আমাদের সবার।"
কিন্তু রুবিনার কান ছিল না। তার চোখে তখন শুধু রানা।
ধ্বংসের শুরু
একদিন হঠাৎ রুবিনা সংসার ছেড়ে চলে গেল। সন্তানদের রেখে রানার সাথে চলে গেল। শহিদ চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুধু বললো—
👉 "তুমি যদি যেতে চাও যাও, কিন্তু বাচ্চাদের আমার কাছেই থাকবে।"
রুবিনা তখন বলেছিল—
👉 "তুমি বাচ্চাদের মানুষ করো, আমি আমার জীবন বাঁচাবো।"
চারদিকে তোলপাড় হলো। আত্মীয়-স্বজন মুখ ফিরিয়ে নিলো। প্রতিবেশীরা বললো—
👉 "অত ভালো স্বামী, এমন সুন্দর পরিবার—সব ছেড়ে এক মেয়ে কি করে গেল!"
কিন্তু বাস্তব বড় নিষ্ঠুর। কয়েক মাস পর রুবিনা বুঝলো, রানা তাকে ভালোবাসেনি। সে শুধু টাকার জন্য, শরীরের জন্য ব্যবহার করেছে। কিছুদিন পর রানা অন্য নারীর সাথে জড়িয়ে গেল।
তখন রুবিনা ফিরে এলো শহিদের কাছে। চোখে জল, মুখে অনুনয়—
👉 "শহিদ, আমাকে ক্ষমা করো, আমাকে আরেকটা সুযোগ দাও। আমি বাচ্চাদের কাছে ফিরতে চাই।"
শহিদ ঠাণ্ডা গলায় উত্তর দিলো—
👉 "ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু আর গ্রহণ করতে পারবো না। তুমি শুধু আমাকে না, আমাদের সন্তানদেরও মেরে ফেলেছো ভেতর থেকে।"
রিমি আর রাফি মায়ের দিকে তাকায়নি। তারা শুধু বাবার হাত শক্ত করে ধরে বললো—
👉 "আমরা শুধু তোমাকেই চাই আব্বু।"
শেষ পরিণতি
রুবিনা তখন একেবারে একা। সমাজ তাকে গ্রহণ করেনি, সন্তানরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, রানা তাকে ফেলে দিয়েছে। একসময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে লাগলো।
একদিন বাজারে লোকজন দেখলো, রুবিনা বসে আছে ধুলার মধ্যে, চুল এলোমেলো, মুখ শুকনো। নিজের সাথেই নিজে কথা বলছে—
👉 "আমার বাচ্চারা কোথায় গেলো? শহিদ, তুমি আমাকে নিলে না কেন? রানা, তুমি ফিরে আসো..."
কেউ তাকে কাছে টানলো না, সবাই এড়িয়ে গেলো।
শিক্ষা
পরকীয়া কোনো সম্পর্ক না, এটা এক ধ্বংসের নাম। সাময়িক আবেগে একজন নারী বা পুরুষ ভেবে নেয়—সে নতুন মানুষটাকে পেয়ে সুখী হবে। কিন্তু বাস্তবে পরকীয়ার শেষ হয় অপমান, কান্না আর একাকীত্বে।
ভালোবাসা যদি সত্যি হয়—সেটা সংসারের ভেতরেই খুঁজে নিতে হয়। বাইরে গেলে শুধু আগুন, যা সবকিছু জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়।
