প্রবাসীর স্ত্রী – লোভ, প্রেম আর পরকীয়ার ধ্বংসযজ্ঞ
করিম ছিল সৌদি প্রবাসী। দিন-রাত পরিশ্রম করে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিল। তার স্ত্রী নাজমা, দুই মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে বাংলাদেশে সংসার।
বিদেশে যাওয়ার সময় করিম নাজমার হাত ধরে বলেছিল—
👉 "আমার জন্য অপেক্ষা কইরো, আমি শুধু তোমার আর বাচ্চাদের সুখের জন্যই যাচ্ছি।"
নাজমা চোখ মুছতে মুছতে বলেছিল—
👉 "তুমি চিন্তা কইরো না, আমি তোমার ঘর আগলে রাখবো।"
কিন্তু বাস্তব বড় নিষ্ঠুর।
বিলাসিতার শুরু
করিম প্রতি মাসে টাকা পাঠাতো। শুরুতে সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে নাজমার চোখ বড় হতে লাগলো। নতুন মোবাইল, নতুন শাড়ি, পার্লারে যাওয়া—সবকিছুতেই টাকা খরচ করতে লাগলো।
প্রতিবেশীরা বলতো—
👉 "নাজমা তো দিন দিন অন্যরকম হইতেছে, সাজগোজে কোনো কমতি নাই!"
করিম যখন ভিডিও কল করতো, নাজমা সবসময় ব্যস্ততার অজুহাত দেখাতো।
👉 "এই যে, বাচ্চাদের পড়াতে বসছি, পরে কথা বলি।"
কিন্তু সত্যি হলো, তখন নাজমা অন্য কারও সাথে মগ্ন।
পরকীয়ার আগমন
তাদের এলাকায় মফিজ নামের এক লোক থাকতো। করিমের পাঠানো টাকায় ঘর বানাতে গিয়ে মফিজকে রাজমিস্ত্রির কাজের জন্য আনা হলো। সেখান থেকেই শুরু। মফিজ কথা বলতো চটকদার, শরীরে শক্তি, নাজমার একঘেয়ে জীবনে নতুন উত্তেজনা এনে দিলো।
প্রথমে লুকিয়ে লুকিয়ে কথা, তারপর রাতের অন্ধকারে গোপন সাক্ষাৎ। বাচ্চারা ঘুমালে নাজমা দরজা খুলে দিত।
একদিন প্রতিবেশী একজন হঠাৎ দেখে ফেললো, মফিজ মাঝরাতে নাজমার ঘরে ঢুকছে। কিন্তু প্রবাসীর বউ বলে সবাই চুপ করে গেল।
প্রবাসী স্বামীর সন্দেহ
করিমেরও সন্দেহ হচ্ছিল। টাকা পাঠায়, কিন্তু ঘরে জমা নেই। সন্তানরা বাবার সাথে কথা বললে কেমন জানি দূরত্ব। একদিন করিম ফোনে বললো—
👉 "নাজমা, আমি টাকাগুলো রাখার কথা বলছি, কিছু জমাও তো। এত খরচ কই করো?"
নাজমা তাড়াহুড়া করে উত্তর দিলো—
👉 "তুমি কি আমায় বিশ্বাস করোনে? আমি সব বাচ্চাদের জন্য করছি।"
করিম চুপ করে গেলো। দূরদেশে থেকে আর কিছু করার ছিল না।
ধরা পড়া
একদিন হঠাৎ করিম দেশে চলে এলো, কাউকে না জানিয়ে। বাড়িতে ঢুকে দেখে, ঘরে তালা, বাচ্চারা মামার বাড়ি গেছে। রাতে সে ঘরে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো। হঠাৎ শুনলো পায়ের শব্দ—দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেলো!
মফিজ দরজা খুলে ঢুকছে, আর তার পেছনে নাজমা।
করিম দাঁড়িয়ে উঠতেই নাজমা শিউরে উঠলো।
👉 "এই তুমি! হঠাৎ এলে কেন?"
করিমের চোখে পানি, কিন্তু গলায় আগুন—
👉 "আমি তো শুধু তোমার সুখের জন্য জীবনটা শেষ করলাম। আর তুমি?"
মফিজ ভয়ে পালাতে চাইলো, কিন্তু করিম তাকে ধরে ফেললো। বাড়িতে চিৎকার, আশেপাশের লোকজন জড়ো হলো। সবাই দেখলো প্রবাসীর স্ত্রী লজ্জাহীনভাবে পরকীয়া করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা।
শেষ পরিণতি
গ্রামের মানুষ থুতু নিক্ষেপ করলো নাজমার দিকে। সন্তানরা মায়ের দিকে তাকাতেও রাজি হলো না। করিম ডিভোর্স দিলো তাকে সবার সামনে—
👉 "তুমি শুধু আমার না, আমার সন্তানদেরও মেরেছো ভেতর থেকে।"
কিছুদিন পর মফিজও তাকে ছেড়ে দিলো। কারণ, তার আসল লক্ষ্য ছিল টাকা। টাকা ফুরিয়ে গেলে নাজমার কোনো দাম রইলো না।
নাজমা একা হয়ে গেলো। সমাজ তাকে ত্যাগ করলো, সন্তানরা মেনে নিলো না, স্বামী আর ফিরলো না।
শেষে তাকে দেখা গেলো বাজারে পাগলের মতো ঘুরে বেড়াতে। মুখে মুখে শুধু বলতো—
👉 "করিম, আমাকে ক্ষমা করো... আমি ভুল করেছি... আমার বাচ্চারা কোথায়..."
শিক্ষা
প্রবাসীর কষ্টের ঘাম ঝরানো টাকার পেছনে থাকে একটাই স্বপ্ন—পরিবার সুখে থাকবে। কিন্তু স্ত্রী যদি সেই সময় লোভে, আকর্ষণে, পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে, তবে শুধু স্বামী না—সন্তান, পরিবার, সমাজ—সবকিছু ভেঙে পড়ে।
পরকীয়া কখনো সুখ আনে না, এটা কেবল ধ্বংসের ফাঁদ।
