খাল কাটার পরে কুমিরের গায়েবি মামলা
গ্রামের নাম “হাসিখুশি পাড়া”। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, গ্রামের সবাই সবসময় হেসে খেলে থাকে। কিন্তু গ্রামের চেয়ারম্যান ছিলেন একটু আলাদা টাইপের মানুষ—সবকিছুতে নিজের নাম রাখতে চান। এইবার তিনি ঠিক করলেন, “গ্রামের উন্নতি হবে, খাল কাটবো, মাছ আসবে, কুমির আসবে, নাম হবে ‘চেয়ারম্যানের খাল’!”
শুরু হয়ে গেল মহা উৎসব। সবাই কুদাল, বেলচা, ডালি নিয়ে নেমে পড়ল। গ্রামের মুরুব্বি পর্যন্ত এসে বললেন,
— "আমার বয়স এখন ৭০, তাও খাল কাটতে নামছি, কারণ কুমির দেখার শখ ছোট থেকে!"
খাল কাটা হলো তিন মাস ধরে। এত খাটা-খাটনি হলো যে গ্রামের বাচ্চারাও খেলাধুলা ভুলে গিয়েছিল। কাজ শেষে সবাই জড়ো হয়ে কুমিরের জন্য অপেক্ষা করছে—কেউ হাতে ক্যামেরা, কেউ হাতে কলাপাতা (কুমির দেখলে নাকি ভাজা খাবে এই প্ল্যান 🤦♂️)।
দিন গেল, সপ্তাহ গেল, মাস গেল—কিন্তু কুমির আসে না। আসলেই আসে না! একদিন চেয়ারম্যান বিরক্ত হয়ে নদীর ধারে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
— "এই নদীর কুমিররা খালটায় আসছে না কেন?"
নদীর ধারে থাকা এক বুড়ো জেলে হেসে বলল,
— "চেয়ারম্যান সাহেব, কুমির কি আপনার নিমন্ত্রণ কার্ড পায়ছে নাকি? খাল কাটলেই যে কুমির আসবে—এটা তো কুমিরের নিয়ম না!"
গ্রামে আবার মিটিং বসানো হলো। সিদ্ধান্ত হলো—হয় কুমির ভাড়া করে আনা হবে, না হয় কুমিরের ছবি রেখে সবাইকে বলা হবে, "এটাই লাইভ কুমির"।
শেষমেশ এক লোক বাজার থেকে বড়সড় রাবারের কুমির কিনে খালে ভাসিয়ে দিল। পরের দিন গ্রামের মানুষ দেখলো আর চিৎকার—
— "কুমির আসছে! কুমির আসছে!"
সবার উত্তেজনা দেখে চেয়ারম্যানও খুশি হয়ে বললেন,
— "দেখলেন? আমার প্ল্যান সফল!"
কিন্তু গ্রামের এক ছোট্ট ছেলে হঠাৎ কুমিরটাকে পেছন থেকে ঠেলে দিল—দেখা গেল সেটার পেট ফাঁপা, ভেতরে হাওয়া! 🤣
সেদিন থেকে গ্রামে নতুন প্রবাদ চালু হলো—
"খাল কেটে কুমির না এলে, চেয়ারম্যান এনে দিবে প্লাস্টিকের কুমির!"
