নারী টাকার জন্য সত্যি কারের ভালোবাসা ভুলে যায় | নারীর মিথ্যা ভালোবাসার ফল

ধোঁকার প্রেম – লোভী নারীর শেষ পরিণতি

ধোঁকার প্রেম

রাশেদ ছিল একেবারে মধ্যবিত্ত ছেলে। বাবার সরকারি চাকরি, সংসারে কষ্ট, কিন্তু স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। ছেলেটা পড়াশোনায় ভালো, চরিত্রে শান্ত, আর বিশ্বাসী।

তার কলেজ জীবনে পরিচয় হলো মাহিরা নামের এক মেয়ের সাথে। মাহিরা দেখতে সুন্দরী, চটপটে আর সবসময় বড় স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। সে রাশেদের কাছে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতো, আকাশ-পাতাল কসম খেত—

মাহিরা:

– রাশেদ, তুমি ছাড়া আমি বাঁচবো না। তুমি না থাকলে আমি নিজেকে শেষ করে ফেলবো।

রাশেদ (হেসে):

– আমি সারাজীবন তোমার পাশেই থাকবো, ভয় নেই। শুধু একটু অপেক্ষা করো, আমি বড় কিছু হবো।

মেয়ের লোভের শুরু

কিন্তু বাস্তব যখন সামনে এলো, তখন মাহিরার মন বদলাতে শুরু করলো।

তার পরিবারে কথা উঠলো—“মাহিরা, ওই ছেলেটা এখনো কিছু হয়নি, ভবিষ্যতে হবে কি না তাও জানা নাই। বরং আমাদের পরিচিত ধনী রিয়াদের প্রস্তাব এসেছে, বাড়ি-গাড়ি সব আছে।”

মাহিরা প্রথমে দ্বিধায় ছিল। কিন্তু বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়, এমনকি নিজের মা-ও যখন বললো—

মা:

– টাকা ছাড়া সংসার হয়? প্রেমে পেট ভরে না। ওই ছেলেকে বিয়ে করলে সারাজীবন কষ্ট পাবে।

তখন মাহিরা ঠিক করলো—রাশেদকে ছেড়ে দেবে।

প্রেম ভাঙার দিন

এক বিকেলে পার্কে দেখা হলো।

মাহিরা (গম্ভীর হয়ে):

– রাশেদ, আমাদের সম্পর্কটা আর চালানো সম্ভব নয়। আমি অন্য কাউকে বিয়ে করবো।

রাশেদ (আতকে উঠে):

– কী বলছো মাহিরা? তুমি তো বলেছিলে তুমি শুধু আমার!

মাহিরা (ঠাণ্ডা গলায়):

– বাস্তব বুঝো। তুমি গরিব, তুমি কোনোদিন কিছু হতে পারবে না। আমি স্বপ্ন দেখি বড় জীবনের, সেটা তুমি দিতে পারবে না।

রাশেদ ভেঙে পড়ে, চোখে জল আসে। কিন্তু সে বলে—

রাশেদ:

– ঠিক আছে, তুমি আমাকে ছেড়ে যাচ্ছো লোভের জন্য। মনে রেখো, আমি হার মানবো না। একদিন দেখবে, আমি তোমাকে ছাড়াই সবকিছু হবো।

ছেলের উত্থান

এরপর শুরু হয় রাশেদের সংগ্রামের জীবন। চাকরি, পরিশ্রম, রাত জেগে কাজ, ছোট ব্যবসা—ধীরে ধীরে সে দাঁড়িয়ে যায়। বছর পাঁচেকের মধ্যে সে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়ে ওঠে।

গাড়ি-বাড়ি, সম্মান—সবকিছু তার ঝুলিতে আসে।

নারীর জীবনে ঝড়

অন্যদিকে মাহিরা বিয়ে করেছিল ধনী রিয়াদকে। শুরুতে সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগলেও, এক বছর যেতে না যেতেই রিয়াদের আসল রূপ বেরিয়ে এলো।

রিয়াদ অহংকারী, মদ্যপ, অন্য নারীর সাথে সম্পর্ক রাখতো। মাহিরার সাথে ঝগড়া, মারধর, অবহেলা—সব শুরু হলো।

তাদের সংসারে কোনো সন্তান হলো না, ফলে চাপ আরও বেড়ে গেলো।

মাহিরা ধীরে ধীরে বুঝলো—

"যাকে আমি টাকা দেখে বিয়ে করেছিলাম, সে টাকা দিলেও ভালোবাসা দিতে পারেনি।"

আবার ফিরে আসার চেষ্টা

একদিন বাজারে হঠাৎ দেখা হলো রাশেদ আর মাহিরার।

রাশেদ তখন গাড়ি থেকে নামছে, পাশে অফিসের সহকর্মীরা।

মাহিরা দূর থেকে দেখে থমকে দাঁড়ায়। সেই মধ্যবিত্ত ছেলেটা এখন সুদর্শন, আত্মবিশ্বাসী, সম্মানিত।

মাহিরা কাঁপা গলায় বলে—

মাহিরা:

– রাশেদ… তুমি সত্যিই অনেক বড় হয়েছো। আমি ভুল করেছি। আমাকে ক্ষমা করো, আমি তোমার কাছে ফিরে আসতে চাই।

রাশেদ হেসে তাকায়।

রাশেদ:

– মাহিরা, আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম সত্যি। কিন্তু তুমি সেই ভালোবাসার মূল্য দাওনি। তুমি টাকা বেছে নিয়েছিলে। এখন যখন সুখ নেই, তখন তুমি আমাকে মনে করেছো?

আমি শিখেছি—যে মানুষ ধোঁকা দেয়, সে কোনোদিন পরিবর্তন হয় না।

নতুন বিয়ে, নতুন জীবন

কিছুদিন পর রাশেদ নিজের পরিবারের পছন্দে এক শিক্ষিত, ভদ্র, সাধারণ মেয়েকে বিয়ে করে।

সেই মেয়ে রাশেদের পাশে থাকে সুখে-দুঃখে, সত্যিকারের ভালোবাসা দিয়ে।

রাশেদ তার বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলো। মাহিরা দূরে বসে ছবিগুলো দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।

তার কপাল জুড়ে শুধু আফসোস।

"যাকে অবহেলা করেছিলাম, সে এখন সুখে আছে। আর আমি যাকে বিয়ে করেছিলাম, সে শুধু কষ্ট দিয়েছে।"

শেষ শিক্ষা

লোভে পড়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত কখনো সুখ আনে না।

মধ্যবিত্ত মানেই ব্যর্থ নয়। সঠিক পরিশ্রমে সেই ছেলেই হতে পারে শ্রেষ্ঠ।

ধোঁকা দিয়ে ভালোবাসা ফেলে যাওয়া মানুষ একসময় আফসোস ছাড়া কিছুই পায় না।

সুখ টাকা দিয়ে আসে না, আসে সত্যিকারের ভালোবাসা ও বিশ্বাস দিয়ে।