নাট–বল্টুর ঘুরতে যাওয়া
নাট আর বল্টু দুই বন্ধু। দুজনের মস্তিষ্ক খালি ডানপিটে আইডিয়ায় ভরা। একদিন নাট বললো –
👉 "বল্টু, জীবন তো একটাই, ঘুরতে যাই কক্সবাজার।"
বল্টু সাথে সাথে রাজি –
👉 "ঠিক আছে, কিন্তু টাকা কই?"
নাট খুব গম্ভীর হয়ে উত্তর দিলো –
👉 "টাকা? ওটা খুব ছোট সমস্যা। আমার চাচার আলমারিতে তিনশো টাকার কয়েন আছে, ওইটাই নিয়ে যাই, নাহলে তো বউরা সব নিয়ে যাবে।"
বল্টু ভাবলো দারুণ প্ল্যান। রাতে তারা চাচার আলমারিতে ঢুকে ২ কেজি কয়েন নিয়ে ব্যাগে ভরে নিলো। দুজন মিলে ট্রেনে উঠলো।
ট্রেনে কাণ্ড
ট্রেনের ভেতরে নাট–বল্টু চা খেতে গেল। নাট বললো –
👉 "দুই কাপ চা দিন ভাই।"
চা–ওয়ালা বললো – "২০ টাকা।"
নাট ব্যাগ থেকে কয়েন বের করতে লাগলো, কিন্তু কয়েন ছিলো সব ৫০ পয়সা আর ১ টাকার। চা–ওয়ালা কয়েন দেখে বললো –
👉 "ভাই, কয়েন না, টাকা দেন।"
নাট উত্তর দিলো –
👉 "টাকা তো এইটাই, সরকারের তৈরি জিনিস।"
চা–ওয়ালা রেগে গিয়ে বললো –
👉 "এই কয়েন গুনতে গুনতে আমার চুল সাদা হয়ে যাবে, আমি বিয়ে করতে পারবো না।"
বল্টু তখন নাটকে বলে দিলো –
👉 "দেখছিস, তুই একটা চায়ের জন্য মানুষের বিয়ে পর্যন্ত আটকে দিলি।"
কক্সবাজারে নামার পর
নাট–বল্টু নেমেই ফটোসেশন শুরু করলো। নাট শার্ট খুলে দাঁড়িয়ে বললো –
👉 "বল্টু, আমাকে এমন ছবি তুল, যেন আমি হৃত্বিক রোশনের কাজিন।"
বল্টু ছবি তুললো, কিন্তু পরে দেখে নাটের পেছনে গরু ঘাস খাচ্ছে। সবাই দেখে হাসতে লাগলো –
👉 "এই যে, হৃত্বিকের কাজিন না, গরুর রাখাল!"
তারপর তারা সী–বিচে গেলো। নাট সমুদ্রের ঢেউ দেখে চিৎকার করে –
👉 "বল্টু, আয়, পানি কম, নেমে যাই।"
বল্টু নেমে পড়লো, কিন্তু সাথে সাথেই এক ঢেউ এসে তাকে উল্টে দিলো। মানুষজন দূর থেকে চিৎকার করছে –
👉 "লাইফগার্ড ডাকো, মোটা তিমি ভেসে আসছে!"
বল্টু উঠে এসে বললো –
👉 "এই নাট, আমি মানুষ না তিমি?"
নাট গম্ভীর হয়ে বললো –
👉 "সত্যি কথা বলবো? একটু আগে আমি নিজেই কনফিউজড হয়ে গেছিলাম।"
হোটেলে কাণ্ড
তারা রাতে হোটেলে ঢুকলো। রিসেপশনিস্ট বললো –
👉 "কতদিন থাকবেন?"
বল্টু উত্তর দিলো –
👉 "দুইদিন থাকবো, কিন্তু টাকা দেবো চেক–আউটের সময়।"
হোটেল মালিক বললো –
👉 "ঠিক আছে, জামানত দেন।"
নাট ব্যাগ থেকে আবার কয়েন বের করলো। রিসেপশনিস্ট বললো –
👉 "ভাই, কয়েন দিয়ে হোটেল বুকিং হয় না।"
নাট গম্ভীরভাবে বললো –
👉 "আমরা ইতিহাস তৈরি করতে এসেছি।"
শেষ কাণ্ড
পরদিন সকালে তারা সী–বিচ থেকে গোপনে হোটেলের বালতি, মগ, এমনকি বালিশ পর্যন্ত নিয়ে ট্রেনে উঠলো। ট্রেন যখন ছাড়লো তখন হোটেল মালিক চিৎকার করে বললো –
👉 "এই দুইজন কয়েনওয়ালা ডাকাতকে ধরো!"
পুরো ট্রেন ভরা মানুষ হাসতে লাগলো।
বল্টু নাটকে বললো –
👉 "দোস্ত, এখন আমরা কক্সবাজারের ট্যুরিস্ট না, ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছি।"
নাট মাথা নেড়ে উত্তর দিলো –
👉 "হ্যাঁ, আমাদের নিয়ে বই লিখলে নাম হবে – ‘কক্সবাজারে কয়েন সন্ত্রাস’।"
গল্পের মজা
নাট–বল্টু ঘুরতে গিয়ে টাকা খরচ না করে পুরো ভ্রমণটাই কেলেঙ্কারি বানালো। শেষে তারা ট্রেন থেকে পালিয়ে বাঁচলো, কিন্তু সারাজীবনের জন্য তাদের নাম হলো – “কয়েন–ভাই ট্যুরিস্ট”।
