নীরবতার ঢাল
একটা ছোট্ট গ্রামে থাকত কয়েকশ পরিবার। গ্রামটা শান্ত হলেও চারপাশে ছিল লোভী মানুষের দখলদারি, রাজনীতি আর অন্যায়। গ্রামের মানুষ বহুবার ভেবেছিল প্রতিবাদ করবে, কিন্তু তারা জানত— একবার মুখ খুললেই বিপদ আসবে তাদের ঘরে, কানে শুনলেই টেনে নিয়ে যাওয়া হবে ঝামেলায়।
গ্রামের প্রবীণ এক বৃদ্ধ বলত,
“মুখ বন্ধ রাখো, কান বন্ধ রাখো, তাহলেই সবাই বাঁচবে।”
প্রথমে এই কথা অনেকের কাছে কাপুরুষের মতো মনে হয়েছিল। কিন্তু দিন যত এগোলো, তত বোঝা গেল— যারা প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল, তাদের ঘর ভেঙেছে, ফসল পুড়েছে, জীবন ধ্বংস হয়েছে। অথচ যারা নীরব থেকেছে, তারা অন্তত পরিবারকে আগলে রাখতে পেরেছে।
সময়ের সাথে সাথে গ্রামে এক অদ্ভুত নিয়ম গড়ে উঠল—
কোনো অন্যায় চোখে পড়লেও কেউ মুখ খোলে না।
কেউ যদি কান ভরে খবর দেয়, সবাই ভান করে কিছু শোনেনি।
এইভাবে গ্রামটা ধীরে ধীরে শিখে নিল এক ভিন্ন দর্শন:
অন্যায় মেনে নেওয়া নয়, বরং নীরবতা দিয়ে নিজেদের রক্ষা করা।
হয়তো বাইরে থেকে দেখলে এ সমাজ ভীরু মনে হয়, কিন্তু ভেতরে এটাই তাদের টিকে থাকার উপায়।
কারণ মুখ খুললেই জীবন ঝরে যায়, কান খোলা রাখলেই শান্তি ভেঙে যায়।
আর মুখ-কান বন্ধ রাখলেই অন্তত পরিবার, সন্তান আর শান্তির টুকরোটা বেঁচে থাকে।
